একটি হলুদ খামের চিঠি!
Mrinmoy Chowdhury
আধখাওয়া হাতের চায়ের কাপটা টেবিলে রাখলাম। সোনালী রঙের ফ্রেমে বাঁধা চশমাটা পরে নিলাম। টেবিলে রাখা একটি হলুদ খাম।
আলমারীটা একটু নড়াচড়া করতেই পেলাম খামটা। টেবিলে রাখা ছিল সারাদিন। সময় রাত ১১টা। ঘরে আমার জীবদ্দশার মত মৃদু আলোর একটি ডিম লাইট জ্বলছিল। চিঠিটা অনেক বছর পুরোনো। অতন্দ্রীলা দিয়েছিল। কিন্তু শর্ত ছিল জীবনের শেষ মূহুর্তের আগে যেন এটা না খুলি, না পড়ি।
এখন আমার জীবনের শেষ সময়।
অতন্দ্রীলার ভালোবাসা এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে আমাকে।
কিন্তু অতন্দ্রীলা এখন আমাকে ডাকছে।
এবার চিঠিটা পড়া যাক:-
প্রিয়তম,
আশা করি, তুমি আমাকে বুকে ধারণ করেই বেঁচে আছো। ভালোবাসা কি আমি জানতাম না। তোমার কাছ থেকেই শিখেছি ভালোবাসার অভিধান৷ আমি জানি তুমি আমাকে খুব গভীরভাবে ভালোবাসতে৷ আমার ভালোবাসারও কমতি ছিল না। রাতে তোমাকে ভেবেই ঘুমাতাম আর সকালে ঘুম ভাঙলেই তোমাকে মনে করতাম। বিশ্বাস কর, আমি আমার বাবাকে অনেক বুঝানোর পরও বাবা মেনে নিতে পারেনি তোমাকে। সমস্যা একটাই; তোমার বেকারত্ব। আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিল লালনের সাথে। আমি তো তোমার হাতে সিঁদুর পরতে চেয়েছিলাম৷ তবে কেনো লালন আমাকে সিঁদুর পরালো? জানি জবাব নেই। লালনকে আমার অসহ্য মনে হতো সবসময়। আমার মন প্রাণ তো তোমাকে দিয়েছিলাম। আমি পারবো না সারাটাজীবন ওর সাথে সংসার করতে৷ এখন আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কি আর করার ছিল আমার? পারবো না তো তারমি বিষ নামক তরল পদার্থ পান করেছি। আমি জানি, এই পথ ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমার।
ইতি
অতন্দ্রীলা!
চিঠিটা পড়া শেষে ভাঁজ করলাম। আমার সেই পুরনো বুক ব্যাথা শুরু হলো। ধীরে ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হতে লাগলো। চোখে ঘোর অন্ধকার দেখছি। পড়া শেষ হলো 'একটি হলুদ খামের চিঠি।'
মন্তব্যসমূহ